গশীজ্ছস্পাভ্ল।

রায়-সাহেব এমীজ্কগ্গদক্তাম্মম্ক স্ল্লাম্

দ্বিতীয় সংস্করণ

প্রকাশক ইগিয়ান্‌ প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ

১৯২৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ] মূল্য আড়াই টাক]।

£€ প্রচ্কাশক ইগ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড এলাহাবাদ

প্রিপ্টার £--- শ্রীঅপুর্বকৃষ্ণ বন ইপ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড বেনারস

নিবেদন

ছোটে। ছেলেমেয়েদের পড়ার উপযোগী উদ্ভিদ্ববিদ্ভার কোনে বই বাংল! ভাষায় নাই। তাই বাংল! দেশেরই সাধারণ গাছপালার পরিচয় দির বইখানি রচনা করিয়াছি ইহাতে গাছের শ্রেণীবিভাগ এবং তাহাদের জীবনের খুটিনাটি ব্যাপার গুলি বুঝাইবার চেষ্টা করি নাই। বউখানি পড়িয়া যাহাতে ছেলেমেয়েদের অন্তসন্ষিৎস! জাগিয়! উঠে, পুস্তক রচনার সময়ে সেই দ্বিকেই বিশেষ লক্ষ্য রাখিয়াছিলাম যাহাদের জনা পুস্তকখানি লিখিলাম, তাহারা উহ পড়িয়া শিক্ষা আনন্দ লাভ করিলে রুতীর্থ হইব

পুস্তকের অধিকাংশ ছবিই শান্তিনিকেতন বিশ্বভারতীর ছাত্র শ্রীমান্‌ অর্দেন্দুকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়, ধীরেক্দর- রুষণ দেববম্মা এবং অব্রদাকুমার মজুমদার কতক অস্কিত। তা" ছাড়া লুণকৃল « ই্রাস্বগার পুস্থক হইতে কতকগুলি ছবি গ্রহণ কর! হইয়াছে স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত নন্দলাল বস্থ এবং অসিতকুমার হালদার মহাশয়দ্য়ও কয়েকখানি ছবি আকিয়। দিয়াছেন ইহাদের সহাধ্য না পাইলে পুস্তকপ্রকাশে বিদ্ব ঘটিত। তাই এই স্থযোগে ইহাদের সকলের নিকটে এবং প্রকাশক মহাশয়দিগের নিকটে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি

ব্রক্মষ্যাশ্রম শান্তিনিকেতন জগদানন্দ রায়

আসন্থিন, ১৩৭৮ |

বিষয়

প্রথম কথা৷ গাছ গাছের দেহ গাছের আয়ু শিকড় শিকড়ের কাজ শিকড়ের খাছ্য খা এয়ার প্রণালী গুড়ি লতা অন্য গাছকে জড়ায় কেন? মাটির তলার গুঁড়ি গ্ঁড়ির আকৃতি গাছের বৃদ্ধি কোষের ভিতরকার দ্রব্য গাছের ভিতরকার অবস্থ! ঘি-বীজপত্রী গাছের নলিকাগুচ্ছ গাছের ছাল ৪৫

৮০

বিষয় পত্রান্ক এক-বীজপত্রী গাছের গুড়ি টা ্্ ৬৫ পাত। নু ডি ৮৪০ ৬৭ পাতার আকুতি এপ কি বি ৬৮ পাতার শুয়ো কাট। *** পাতার শির! - ”** ৮৭ পন্রবিন্যাস হা টা ৯০ উপপত্র রি রর রি ১৪০২ পাতার গঠন রর বা রর ১৩৪ বাযুপথ রা নি: রি ৬১০ ৬৩ পাতার ভিতরকার কোষ-সজ্জ! ৮, -** ১০৮ বন্ধছিছ দু যু রা ১১১ পাত'-ঝর। ১০৯ ঠা ০, ১১২ পাতার কাজ রি রি ”** ১১৪ গাছের খাগ্যভাণ্ডার "-* "ঃ ট্ ১২২ পাতার গন্ধ রী রা ১২৫ গাছের নিশ্বাস-প্রশ্বাস *-- *** ১২৭ স্বেদন | -** --- ১২৯ পরগাছ। 2 রি ১৩১ পোকাখেগো গাছ 2 র্‌ রি ১৩৫ গাছের ঘুম রঃ 3 রর ১৩৮ কুড়ি টু ১৪৪

শাখা-প্রশাখা -* ”* '- ১৫১

2

বিষয় কাটা আকড়ি ফুল ফুলে ফল ধরা পুষ্পবিষ্যাস কুণ্ড, পুষ্পমুকুট ফুলের কূড়ির দল-বিন্যাস পিতৃকেশর পরাগ-স্থালী মাতৃকেশর মাতৃকেশরের দণ্ড মুণ্ড কলের উৎপত্তি পরাগ-পাতন মধুকোষ পাতার নানা মুত্তি ফল ্‌ স্ফোটক ফল অস্ফোটক ফল পুগ্তী ফল গাছের বংশ-বিস্তার বীজের অঙ্কুর অপুষ্পক গাছ

১৯৭৩

১৫) ২৩৭ ৩৩ ২৩৮ ১৬০ ৪২ 6৬ ২৬৪

২৬৭

বিষয় পত্রান্ক ফারণ রি রি দ্র শেওলা . রী রি, হন ব্যাঙের ছাত' “** হি 8 ২৭৬ মষ্যাণু উরি ছে তির ২৮২ পান! রর রে ২৮৬ জীবাণু 2 ২৮৮ গাছপালার শ্রেণীবিভাগ -* ১৯, ২৯৩ ভারতবধের প্রাচীন উদ্ভিদ্-শান্ত্র "-. রর হব প্রাচীন ভারতে গাছপালার শ্রেণীবিভাগ *** ৩০১

গাছপালার জীবনের ফ্কাজ ৮০, সু 5৫

অপরাজিত?

গগাছঞ্পালা

প্রথম কথা

রোজ ভোরে উঠিয়া আমরা ইট-কাঠ, ঘর-বাঁড়ী, কুকুর- বিড়াল, গাছপালা কত কি জিনিস যে দেখি, তাহা গুণিয়াই শেষ করা যায় না। তোমরা যদি একটু ভাবিয়! দেখ, তাহা হইলে বুঝিবে_এই জির্নিসগুলার সকলেই জ্যান্ত নয়। যাহার কিছু খায় না, যাহার আপন! হইতেই বড় হয় না এবং যাহাদের বাচ্চা হয় না, তাহার! জ্যান্ত নয়। যে-সব জিনিস জ্যান্ত নয় তাহাদিগকে জড় বল] হয়। ইট-পাথর, কাগজ-কলম, ছুরি-কীচি, শ্লেট-বই, শিশি-বোতল, তেল-জল, _ এই রকম সব জিনিসই জড় ইহার! কিছু খায় না, গরু- বাছুরের মত বাড়ে না, ইহাদের বাচ্চাও হয় না। কিন্তু ছাগল-ভেড়।, কাক-শালিক, বিছে-ব্যাঙ, কুকুর-শেয়াল, আম গাছ, কাটাল গাছ, সে-রকম নয়। ইহারা খাবার খায়, একটু একটু করিয়! বড় হয়"। তার পরে তাহাদের বাচ্চা হয়

গাছপাল।

এবং শেষে মরিয়া! যায়। কাজেই, এগুলি জ্যান্ত। এই রকম জ্যান্ত জিনিসকে জীব বল। হয়

তাহা হইলে বুঝ! যাইতেছে, আমর! চারিদিকে রোজ যে-সব জিনিস দেখিতে পাই তাহাদের মধ্যে ছুইট। দল আছে। এক দল জড় এবং আর এক দল জীব।

তোমরা হয় ভাবিতেছ, আম গাছ, কাটাল গাছ বাগানের ফুল গাছদের বুঝি জীবন নাই, তাহারা বুঝি জ্যান্ত নয়। কিন্তু তাহা নয়-_-ইহারা! তোমাদের পোষ। কুকুরের বাচ্চাটির মতই জ্যান্ত বাচ্চাটির কাছে এক বাটি দুধ রাখিলে সে চকৃ-চক্‌ করিয়া ছুধটুকু খাইয়া ফেলে গাছের কাছে এক থাল। ভাত বা এক পেয়াল। ছুধ রাখিলে সে তাহ। সে-রকমে খায় না বটে, কিন্তু বাঁচিয়া থাকার জন্য তাহার খাবারের দরকার হয়। তোমাদের বাগানের তরকারির গাছপাল। দিন দিন কি-রকমে বাড়ে, তোমরা তাহ দেখ নাই কি? গাছপালার৷ শিকড় দিয়া, পাতা। দিয়া মাটি বাতাস হইতে মনের মত খাবার চুষিয়া খায়, তাই তাহার! দিনে দিনে বড় হষ। তার পরে গরু-ঘোড়া, বিছে-ব্যাঙের যে-রকম বাচ্চ! হয়, ইহাদেরে। সেরকম ছোট ছোটে) চার হয় শেষে তাহারা মরিয়া যায়।

তাহা! হইলে দেখ, জন্ত-জানোয়ারদের সঙ্গে গাছপালাদের এ-সব বিষয়ে বিশেষ তফাৎ নাই | কিন্তু অন্ত বিষয়ে অনেক তফাৎ আছে জন্ত-জানোয়ারদের ঘেমন চোখ, কান, পা অছে, গাছপালাদের সে-সব কিছুই নাই তা-ছাড়া শরীরের

প্রথম কথ ্‌

ভিতরকার যে-সব যন্্ব দিয়! জন্তদের জীবনের কাজ চলে, ইহাদের শরীরের ভিতরে ঠিক্‌ সে-রকম যন্ত্রেরও সন্ধান পাওয়া যায় না। কাজেই, গাছপাল। জন্ত-গ্কানোয়ারকে একই রকমের জীব বলা যায় না! তাই পণ্ডিতর! জন্ত-জানোয়ারদের প্রাণী নাম দিয়াছেন এবং গাছপালাদের উদ্ড্িদ বলিয়াছেন তাহ! হইলে বুঝা যাইতেছে, জীবদের মধ্যেও ছুইট। দল আছে এক দলের নাম প্রাণী এবং আর একদলের নাম উদ্ভিদ যাহা হউক, প্রাণীদের ?কানে। কথ এই বইয়ে বলিব ন।। উদ্ভিদ্র! অর্থাৎ গাছপালার! কি-রকমে জন্মে, কি-রকমে খায়, কি-রকমে তাহাদের ফুল-কল হয়, সেই সব বিবয় একে একে তোমাদের বলিব। তোমাদের বাগানে কত ফুলের গাছ, কত ফলের গাছ, কত তরি-তরকারির গাছ রহিয়াছে | সেগুলিতে কত সুন্দর ফুল ফোটে, কত ভালে৷ ভালে! ফল ফলে। তাহারা কি-রকমে বাচিয়। থাকে, কি-রকমে ফুল ফোটায়, কি-রকমে ফল ধরায়,এসব কথা তোমাদের জানিতে ইচ্ছা হয় না কি? চাল, দাল, তেল, তরি-তরকারি, কাঠ, কয়লা--সকল জিনিসই আমর! গাছপালার কাছ হইতে পাই। ইহাদের স্ুখহুঃখের এবং জীবনের কথা আমাদের জানা উচিত প্রাণীদের যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া, মশা, মাছি প্রভৃতি নানা জাতি আছে, গাছদের মধ্যেও সেই রকম নান। জাতি দেখা যায়। পৃথিবীতে মোট ছুই লক্ষ তেত্রিশ হাজার রকমের গাছ আছে।

গাছ

গাছ বলিলেই বট, অশখ, তাল, বেল, খেজুর, লাউ, কুমড়া প্রভৃতি সবুজ রডের গাছের কথা আমাদের মনে হয়। কিন্ত কেবল এগুলি লইয়াই গ্রাছ নয়। গাছ ষে কত রকম আছে, তাহা তোমরা গুণিয়াই শেষ করিতে পারিবে না। যাহার শিকড় নাই, পাত। নাই, এ-রকম গাছও হাজার হাজার আছে। ঝাউ গাছ, বট গাছ, কত বড় হয় তোমরা সকলেই দেখিয়াছ। দূরে দাড়াইয়া ঘাড় উচু না করিলে, এ-সব গাছের মাথ। নজরে পড়ে না। কিন্তু যাহাদ্িগকে আমর! চোখে দেখিতে পাই না, এরকম ছোটো গাছও অনেক আছে। সেগুলিকে দেখিতে হইলে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের দরকার হয়। ফুল ফল বীজ অনেক গাছেরই হয় কিন্তু যাহাঁদের ফুল হয় না, ফলও হয় না, এরকম গাছও শত শত আছে। তোমরা কেবল সবুজ রঙের গাছই দেখিতে পাও। ঘাসের রঙ. সবুজ, ধানের ক্ষেতের রঙ. সবুজ, আম কীটাল জাম নেবু সব গাছেরই রড. সবুজ যাহাদের গায়ে সবুজ রঙের একটুও ছাপ নাই, এ-রকম গাছও অনেক আছে। তোমরা হয় ভাবিতেছ, এই সব ক্ষষ্টি-ছাড়া গাছ বুঝি খুব দূরদেশের বন-জঙ্গলে হয় কিন্থ তা নয়, আমাদের দেশে, আমাদেরি চারি পাশে এই সব গাছ শত শত আছে। আমরা হয় এই সব গাছ পায়ে

গাছের দেহ

মাড়াইয়াও চলি, তাহাদের দিকে একবার ফিরিয়াও তাকাই না। তোমরা একে একে এই সব গাছের কথা জানিতে পারিবে

যে-সব গাছের রঙ. সবুজ, যাহাদের ফুল-ফল হয়, আমর! তাহাদের কথা প্রথমে বলিব। পণ্ডিতর! পৃথিবীতে এই রকম প্রায় এক লক্ষ তেত্রশ হাজার ভিন্ন ভিন্ন গাছ দেখিতে পাইয়াছেন। এখনো খোজ করা শেষ হয় নাই। ভালো করিয়া অনুসন্ধান করিলে, হয় আরো এক লক্ষ নৃতন গাছের সন্ধান পাওয়। যাইবে সুতরাং, সব গাছের কথা তোমাদিগকে বলিতে পারিব না যে-সব গাছ তোমাদের বাগানে বা বাড়ীর কাছের জঙ্গলে আছে, তাহাদেরি কতকগুলির পরিচয় দিব

গ্রাছের দেহ

তোমাদের পোষ বিড়ালটির নাম কি, তাহা! জানি ন!। তোষরা হয় তাহাকে পুষি বা মেনি বলিয়া ডাকিয়া থাক। প্ুষির শরীরটা কি-রকম, জিজ্ঞাসা করিলে, তোমরা হয় চট্পটু বলিয়া! দ্রিবে,__তাহার চারিখানা পা আছে, একটা মাথ। আছে, এবং মাথায় ছুষ্টা চোখ, ছুস্টা কান, একটা মুখ, একটা নাক আছে। তার পরে বলিবে,_ তাহার পিছনে একটা লম্বা লেজ আছে। কোন্‌ কোন্‌ অঙ্গ লইয়া মানুষের দেহ হইয়াছে, তাহাও তোমরা জানো কাগজে মানুষের একট ছবি আঁকিয়া 'তোমর। তাহা, আমাদিগকে বুঝাইয়।

গাছপাল।

দিতে পারিবে কিন্তু কোন্‌ কোন্‌ অংশ লইয়া গাছের দেহ হইয়াছে, তোমর! ভাবিয়া দেখিয়াছ কি? বোধ হয় এ-সম্বন্ধে কোনো খোৌঁজই কর নাই। আজ এক সময়ে তোমাদের বাগানের আম গাছ, কাটাল গাছ, গোলাপ গাছ, তুলসী গাছ প্রভৃতি যে-কোনো গাছ লইয়া দেখিয়ো; দেখিবে, জন্ত-জানোয়ারদের শরীরে যেমন মাথা, ধড়, হাত, পা প্রভৃতি কতকগুলো৷ অংশ আছে, ইহাদেরো৷ শরীরে সেই রকম শিকড়, গুঁড়ি, পাতা, ফুল, ফল, বীজ ইতা।দি অনেক অংশ রহিয়াছে। এইগুলি লইয়াই গাছের শরীর

জন্তদের শরীরের ভিতরে যে হাড়-গৌডের কাঠামো থাকে, তাহাই উহাদের দেহকে মাটির উপরে শক্ত করিয়া দাড় করায় কেঁচো কৃমির শরীরে হাড় নাই, তাই তাহার! মাটির উপরে খাড়া হইয়া দঈাড়াইতে পারে না। গুড়ি শিকড় গাছদের হাড়-গোড়ের মতোই কাজ করে। মাটির খুব নীচে শিকড় চালাইয়। ইহাদের গুড়ি খুঁটির মতো শক্ত হইয়া দাচ্ডায়, তার পরে তাহা হইতে কত ডাল, কত পাতা, কত ফুল-ফল জন্মিতে থাকে।

গাছের শিকড় কখনই মাটি ছাড়িয়। উপর দিকে বাড়ে না এব" তাহার খ্ঁড়িও কখনো উপর ছাড়িয়া মাটির নীচে নামে না। ইহা বড়ই আশ্চধ্য ব্যাপার তোমাদের বাগানে যে-সব গাভ আছে, তাহা পরীক্ষা করিয়ো প্রত্যেক গাছেই ইহা দেখিতে পাইবে [শকড় নীচের দিকে বাড়ে বলিয়াই, গাছ

গাছের আয়ু, * শক্ত হইয়া মাটির উপরে দ্রাড়াইতে পারে এবং গুড়ি উপর দিকে বাড়ে বলিয়াই তাহার! এত লম্বা হইয়া পাতাগুলিকে রৌব্রে বাতাসে মেলিয়া রাখিতে পারে

তোমরা একটি ছোটো বিস্কুটের বাক্সে কিছু ভিজে মাটি রাখিয়া তাহাতে কয়েকটি মটরের বীজ পুতিয়! পরীক্ষ। করিয়ো। বীজ হইতে চার! বাহির হইলে দেখিবে, তাহার গুঁড়ি উপর দিকে বাড়িতেছে এবং শিকড নীচের দিকে নামিতেছে |

গাছের আয়ু

মানুষ আশী-নববই বৎসর বাঁচে। কেহ কেহ একশত বংসরেরও বেশি বাচিয়াছে, শুনিয়াছি। কুকুর দশ বৎসরের মধ্যেই মরিয়া যায়। গরু কুড়ি-বাইশ বৎসরের বেশী বাঁচে না। ছাগল তেব বসরেই বুড়া হয় এবং তার পরেই মারা যায়। গাছ কত দিন বাচে, তোমর। বলিতে পার কি? ইহার ঠিক জবাব তোমর! দিতে পারিবে না, আমরাও দিতে পারিব না। এক-এক রকম গাছের এক-এক রকম পরমায়ু। হাজার ছু"হাজার বৎসর বাচিয়া আছে, এমন গাছ আফ্রিক। আমেরিকার জঙ্গলে অনেক রহিয়াছে ঢাক জেলায় গজারিয়া নামে যে গাছটি আছে, তা+ নাকি লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বের সময় হইতে বাঁচিয়া রহিয়াছে কাজেই বলিতে হয়, ইহার বয়স এখন সাভ শত বৎসরেরও বেশি লঙ্কা দ্বীপে

৮৮৪ গাছপালা!

বুদ্ধদেবের একটি খুব পুরাণে! ভাঙ! মন্দির আছে, সেখানে নাকি একটি অশথ গাছ ছু'-হাজার বৎসর পধ্যস্ত বাচিয়। রহিয়াছে সত্তর আনী বৎসর বাঁচিয়া আছে, এ-রকম তেতুল আম গাছ আমরা অনেক দেখিয়াছি তিন চারি শত বৎসরের বট গাছ আমাদের দেশেই অনেক আছে কাজেই, পোকা-মাকড়ের বা ব্যারামের উৎপাতে না মরিলে কত বয়সে গাছের! বুড়ে। হয়, তাহা ঠিক বলা যায় না।

কোথায় কোন্‌ গাছটি কত দিন ধরিয়া বাচিয়া আছে, আমাদের দেশের কেহই তাহার খবর রাখে না। ইংলগু, আমেরিকা প্রভৃতি দেশের লোকের! তাহাদের গ্রামের কাছের বুড়ো গাছগুলি কতর্দিন বাচিয়া আছে, তাহার হিসাব রাখিয়াছে। ওয়েলবেক্‌ গিজ্জীর কাছে একট। দেড় হাজার বৎসরের ওক গাছ আছে। ডরসেট সায়ারের একটা ওক গাছের বয়স এখন অন্তত ছুই হাজার বমর। স্থৃতরাং বলিতে হয়, গাছের বয়সের সীম! ঠিক্‌ করা যায় না

গাছ যে কত বড় হয়, ইহাও ঠিক করিয়া বল! কঠিন। আমরা একটা বড় শিমুল গাছ দেখিলে মনে করি, বুঝি ইহার চেয়ে বড় গাছ আর নাই। যে-সব গাছ পৃথিবীর মধ্যে বড় বলিয়া প্রসিদ্ধ, তাহাদের কথা শুনিলে তোমর। অবাকৃ্‌ হইবে। ওয়েলবেক্‌ গিজ্জার কাছের যে গাছটির কথ বলিলাম, তাহার গু'ড়িতে অনায়াসে আট হাত চওড়া এবং পাচ হাত উচু সুঙঙ্গ করা যায় এবং সেই ্ুড়ক্ষের ভিতর

গাছের আয়ু ”.৯

দিয়া ঘোড়ার গাড়ি চালানে। যায়। ডরসেট সায়ারের গাছটির গু'ড়িতে কোটর তৈয়ারি করিলে সেখানে সন্তর জন লোক অনায়াসে বসিয়া থাকিতে পারে। ভাবিয়া দেখ, এই গাছের বেড় কত। ইংলগ্ডের বড় কবি মিল্টন প্রায় তিন শত বৎসর আগে নিজের হাতে যে তত গাছটি পুতিয়াছিলেন, তাহা আজে জীবিত আছে ইহাও একট। খুব বড় গাছ। আমেরিকায় একটা খুব বড় গাছ আছে। ইহার বেড় প্রায় চল্লিশ হাত সে-গাছটি এখনে জীবিত রহিয়াছে

কিন্তু কতকগুলি ছোট গাছ কত বড় হইবে এবং কত দিন বাঁচিবে তাহা আমর! আগে থাকিতেই বলিয়। দিতে পারি। মটর, সীম, জিনিয়া, দোপাটি, তিসি, ধান, গম, কুমড়। প্রভৃতি গাছ তোমরা সকলই দেখিয়াছ। এই গাছগুলি কখনই এক বৎসরের বেশি বাচে না। ইহাদের ফুল হইতে যে ফল হয়, তাহ] পাকিয়া গেলেই গাছ মরিয়। যায়। এই সবগাছদের বর্ষজীবী গাছ বল! হয়। আম, কাটাল প্রভৃতি বড় বড় গাছের ডালপাল! গুড়িতে যে শক্ত কাঠ থাকে, বর্ষজীবী গাছে তাহার নাম-গন্ধ থাকে না। তোমাদের বাগানের লাউ বা কুমড়ার গাছ পরীক্ষা করিয়ো! ; দেখিবে, তাহাদের ভালপাল৷ কত নরম এবং শাস-ওয়াল। এই সব গাছে কাঠ হয় না।

কেবল ছুই বৎসর মাত্র বাচে এরকম গাছও অনেক আছে। কলা, মূল। প্রভৃতি গাছকে তোমরা ছুই বৎসর

১৩ গাছপালা

বাচিতে দেখিবে। আমরা বাগানের মূলা গাছগুলিকে মাঘ মাসেই উপড়াইয়া ফেলি। তাই মনে হয় বুঝি, তাহার! এক বৎসর বাঁচে, কিন্তু সত্যই তাহা নয়। প্রথম বৎসরে শিকড়ে যে খাবার সঞ্চয় করিয়া রাখে, শীতপ্রধান দেশে দ্বিতীয় বংসরে তাহা খাইয়া উহার জীবিত থাকে যে-সব গাছ ছুই বৎসর বাচে তাহাদিগকে দ্বিবর্ষজীবী গাছ বলা হয়। যাহা হউক, একবধজীবী এবং দ্বিবর্ষজীবী গাছের খ্যা খুবই কম,যাহারা অনেক বৎসর বৰাচে এই রকম গাছই বেশি এই রকম গাছকে বনুবরজীবী নাম দেওয়!, যাইতে পারে!

শিকড়

মাটির তলায় গাছের শিকড় কি-রকম থাকে, তোমরা তাহা দেখ নাই কি? আমর! যখন তোমাদের মত ছোটো ছিলাম তখন জ্যৈষ্ঠ মাসে পাকা আম খাইয়া তাহার আঁটি মাডিনার কোণে মাটি চাপা দিয়া রাখিতাম। তার পরে আষাঢ় মাসে বৃষ্টির জল পাইয়া যখন আঁটি হইতে গাছ বাহির হইত, তখন গাছগুলি উপ.ড়াইয়। তাহার গোড়ার পুয়ে দিয়া বাশি তৈয়ার করিতাম। তোমরা এ-রকম আম পুঁয়ের বাশি বাজাও নাই কি? তাহা হইতে পৌঁঁপ। কত রকম রকম শব্দ বাহির হইত; বাড়ীর লোকে তাহাতে অস্থির হইয়! পড়িত। মা বলিতেন,_“আম-পুঁয়ে মুখে দিস্‌ না, আটির ভিতরে পুঁয়ে সাপ আছে ।” ঠাকুর-মা অস্থির হইয়া বলিতেন --ওরে আর বাজাস্‌ নে,_আম-পুয়ের শব্দে ঘরে মশা আসে ।” কিন্তু বাশি থামিত না।

যাহা হউক, শিকড়গুলি মাটির তলায় কি-রকমে থাকে, আমরা আমের নূতন চারা উপ্ডাইবার সময়ে প্রথমে দেখিয়া- ছিলাম। আমের আঁটি, তেঁতুল-বীচি, মটর বা অন্য কোনো বীজ মাটিতে পুতিয়া রাখিয়ো এরং সেগুলি হইতে চার! বাহির হইলে, চারাগুলিকে সাবধানে মাটি হইতে উঠাইয়।

১২ গাছপালা পরীক্ষা করিয়ে ; তাহ। হইলে গাছের শিকড় মাটির তলায় কি-রকমে থাকে, তাহা বেশ দেখিতে পাইবে

টি রে

|

এরা

শাক

টি ব্্্হ

মূল!

আমের চার!

আমরা এখানে একট ছোটো। আমের চারার মুলার ছবি দিলীম। দেখ, একটা মোটা, শিকড় গাচের গোড়া হইতে নীচের দিকে নামিয়াছে। এই প্রধান শিকড়টাকে মূল-শিকড় বলা হয় সব গাছেরই মূল-শিকড়ের গা হইতে অনেক ছোটে ছোটো সরু শিকড় বাহির হয়। ছবিতে তোমর! তাহাও দেখিতে পাইবে

যাহা হউক, তোমরা চারিদিকে যে-সব গাছ দেখিতে পাও, তাহাদের অনেকেরি মুল-শিকড় আছে। কিন্তু ষে গাছ

শিকড়

অনেক দিনের, তাহাদের মূল-শিকড় প্রায়ই খুঁজিয়া পাওয়! যায় না। গাছ যেমন বুড়ো হইতে আরম্ভ করে, অমনি মূল-

শিকড়ের গায়ের শিকড়গুলিই জোরালে। হইয়া ফাড়ায়, তখন কোন্টা মূল-শিকড এবং কোন্টাই বা গায়ের শিকড় তাহ! চিনিয়া লওয়া যায় না

এখানে ধান-গাছের শিকড়ের একটা ছবি দিলাম দেখ, আমের শিকড়ের মত ইহার মূল শিকড় নাই। ইহা দেখিলেই মনে হয়, কে যেন লম্বা চুল বা স্তার গোছ। বাঁধিয়া রাখিয়াছে দেখিতে মাথার জটার মতে! বলিয়া, এই রকম শিকড়কে জটা- শিকড় বল! হয়। তোমাদের বাগানে এবং খেলিবার মাঠে যে রকম-রকম ঘাস দেখিতে পাওয়। যায়, তাহাদের সকলেরি জটা-শিকড় আছে। তা"ছাড়া গম, যব, ভূট্রা, বাশ, নারিকেল, তাল প্রভৃতি অনেক গাছের তোমরা জটা-শিকড় দেখিতে পাইবে

|

ধান গাছের শিকড়

তোমর! হয় ভাবিতেছ, কোন্‌ গাছে মূল-শিকড় আছে: এবং কোন্‌ গাছে জটা-শিকড় আছে, তাহ গাছ উপ্ড়াইয়া না দেখিলে জানা ' যায় না। কিন্তু, তাহ। নয়, _গাছের মূল কি-রকম হইবে তাহ। ঠিক করিবার একট! মজার নিয়ম আছে।

গাছপাল৷

তোমরা যদি এই নিয়মটা মনে করিয়া রাখ, তাহা হইলে শিকড়ের আকৃতি কি-রকম, গাছ না উপ়াইয়াই বলিয়। দিতে পারিবে।

আম, কুমড়া, মটর, কড়াই প্রভৃতি বীজের ছাল উঠাইয়। ফেলিলেই বীজগুলি ছুই ভাগে ভাগ হইয়! যায়। তোমরা কয়েকটি বড় মটর এক বেলা জলে ভিজাইয়া পরীক্ষা করিয়ো; দেখিবে, উপরকার ছাল উঠাইবামাত্র, সেগুলি ছুই ভাগে ভাগ হইয়া যাইতেছে এই দুইটি অংশকে বীজদল বলে। কুমড়া, লাউ, ঝিডে, কাকুড় প্রভৃতির বীজ হইতে প্রথমে যে-সব চারা বাহির হয়, তাহা তোমরা দেখ নাই কি ? এই-সব গাছে প্রথমে ছুইটা করিয়া মোট! পাতা বাহির হয়। সেগুলি প্রথমে শাদ৷ থাকে, তার পরে সবুজ হইয়া যায়। এইগুলিই তাহাদের বীজের *শভিতরকার সেই বীজপত্র আমের আটির ভিতরে যে ছুইটি জোড়া পুঁয়ে থাকে, তাহাই উষ্ার বীজ-দল। গাছ বাহির হইবার সময়ে আমের বীজদল মাটিতে ঢাক থাকে বলিয়া, তাহ আমাদের নজরে পড়ে না। যে-সব গাছের অঙ্কুরে প্রথমে এ-রকম ছুইটি পাত! বাহির হয়, সেগুলিকে দ্বি-বীজপত্রী গাছ বলা হয়।

ধান, গম, যব, ভূট্া! প্রভৃতির বীজ হইতে প্রথমে কি- রকমে চারা বাহির হয়, তোমরা দেখ নাই কি? যে-কোনো ভিজে জায়গায় কয়েকটি ধান ছড়াইয়া পরীক্ষা করিয়ো; দেখিবে' ইহাদের প্রথম অস্কুরে কখনই ছু"্টা পাছা ব+হির হয়

শিকড় ১৫

না৷ -সলিতার মতো জড়ানো৷ একটি পাতাই তাহাদের বীজের ভিতর হইতে বাহির হইয়। আসে। ইহাই তাহাদের বীজপত্র। কাজেই, ধান, গম, যব, ভূট্রা প্রভৃতির গাছকে দ্বি-বীজপত্রী বল! যায় না; ইহারা এক-বীজপত্রী |

পণ্ডিতরা অনেক খোঁজ-খবর লইয়। দেখিয়াছেন, মুল- শিকড় ছি-বীজপত্রী গাছপালাদেরই থাকে এবং জটা-শিকড় থাকে কেবল এক-বীজপত্রী গাছদের দ্বি-বীজপত্রী গাছের জট1-শিকড় হইয়াছে এবং এক-বীঞপত্রী গাছের তলায় মূল- শিকড় রহিয়াছে, ইহ। তোমরা কখনই দেখিতে পাইবে না

এই নিয়মটি বেশ মজার নয় কি? গাছের প্রথম অস্কুরে একটি পাতা বাহির হয়, কি ছুইটি পাত বাহির হয়, ইহ1 জানিয়া তোমরা এখন নিজেরাই গাছের শিকড়ের আকৃতির কথ। বলিয়া! দিতে পারিকে।

মূল-শিকড় জট।-শিকড় ছাড়া অন্ত রকমেরও শিকড় আছে। তোমাদের তাহা হয় মনে পড়িতেছে না। তোমাদের গ্রামে যে বুড়ো বট গাছটি আছে, তাহার কথ। মনে করিয়া দেখ,__তাহার ডালপাল। হইতে হাজার হাজার ঝুরি দরড়ি-দড়ার মতো ঝুলিয়া আছে এগুলি কি ডাল? ডাল নয়, ইহ! বট গাছের শিকড়। বটের ঝুরি খুব লম্ব। হইয়া যখন মাটিতে পুতিয়া যায়, তখন তাহাই একাট নৃতন গাছ হইয়া দাড়ায় কলিকাতার অপর পারে শিবপুরের বাগানে যে বড় বট গাছটি আছে, তোমাদের মধ্যে কেহ কেহ

১৬

গাছপাল।

হয় তাহা দেখিয়াছ। ইহার ঝুরি নামিয়া এত নৃতন গাছের স্ষ্টি করিয়াছে যে, কোন্ট! প্রথম গাছ, তাহার খোজই

চে

|]

1২

|. 1

্ং

আকেব বায়ব শিকড

||]. -

পাওয়া যায় না। তাহা হইলে দেখ, শিকড় যে কেবল মাটির তলাতেই থাকে তাহ নয়, গাছের ডালেও শিকড় থাকে

ছাল ফেলিয়া দিয়! টুকৃর টুক্র৷ করিয়৷ কাটিয়া তোমর৷ আক খাইয়া থাক। লাঠির মতো! লম্ব। লম্ব। গোট। আক তোমরা দেখ নাই কি? এই রকম আকের গোড়ার দ্রিকে প্রত্যেক গাঁটে ছোটো ছোটো! শিকড় থাকে 1 বাশ ভূটা। গাছের গাটেও তোমরা এই রকম শিকড় দেখিতে পাইবে এগুলিও মাটির তলার শিকড় নয়।

এখানে আকের শিকড়ের একটা ছবি দিলাম। ইহার প্রত্যেক গাটেই শিকড় দেখিতে পাইবে

বাঁশ, আক, ভুট্রা ছাড়া তোমাদের বাগানে যদি পটোল, কুমড়া রাডা-আলুর গাছ থাকে, তবে তাহা পরীক্ষ। করিয়ো ; সেগুলির গাটেও অনেক শিকড় দেখিভ্তে পাইবে

শিকড় ১৭

মাটির সঙ্গে এই লব শিকড়ের কোনে সম্বন্ধই থাকে না, -মাটির উপরে বাতাসে তাহার! বাড়িতে থাকে তার পরে যদি কাছে মাটি পায়, তবে সেগুলি মাটির তলায় আশ্রয় লয়। এইজন্য ইহাদিগকে বায়ব শিকড় বল হয়।

তোমরা আলোক-লতার গাছ দেখিয়াছ কি? আমাদের দেশের বন-জঙ্গলে ছোটো! ছোটে! গাছের উপরে শীতকালের শেষে আলোক-লতা। দেখা যায়। হল্দে রঙের সরু সরু লতায় গাছটিকে যেন আলে। করিয়। থাকে। আলোক- লতার কোনো শিকড়ই মাটিতে পোতা থাকে না, ইহার সব শিকড়ইঈ আশ্রিত গ্রাছের রস চুষিয়া লয়। এই জন্য এই প্রকার মূলকে বলা হয় শোষক মূল। রান্না এবং পরগাছ। মান্দাও শোষক মূল দিয়া আশ্রয় গাছের রস টাঁনিয়া লয়।

টি 92৮৮ বেলেগ

গোলাপ, মল্লিকা, ./৮ টগর, জবা, করবী, /%// স্থলপদ্ম প্রভৃতি গাছের রর রর ০১৩ ডাল ভিজে মাটিতে নর পুতিয়। রাখিলে ০৫7 রর তাহাদের মাটির তলার 1%11 - রি গাট হইতে শিকড় 9 দু বাহির হয়। এই পাখরকুচির পাতা

রকমে ডাল পুতিয়া আমরা অনেক নূতন গাছ তৈয়ারি

১৮ গাছপালা

করিয়াছি, তোমরা৪ বোধ হয় করিয়া আগে যে-সব শিকড়ের কথ বলিয়াছি, তাহাদের কোনোটিরই সঙ্গে, এই রকম শিকড়ের মিল দেখা যায় না। এইজন্য বৈজ্ঞানিকর! একটা পুথক্‌ নান দিয়া এই রকম শিকড়কে আকন্মিক বা অপ্রকৃত শিকড় বলিয়াছেন গাছের ডাল বা গুঁড়ি মাটি চাপা পন্ডিলেই হঠাৎ শিকড় বাহির হয়। তাই এ-সব শিকড়ের অপ্রকৃত শিকড় নাম দেওয়। হঠয়াছে। পাথরকুচি ( পূর্ব পৃষ্ঠার ছবি দেখ ) এবং কয়েকটি পাতাবাহার গ[ছের পাতাকে কয়েক দিন মাটি দিয়া রাখিলেও সেগুলি হইতে অপ্রকৃত শিকড় বাহির হয়।

শিকড়ের কাজ

শিকড়-সম্বন্ধে অনেক কথা তোমাদিগকে বলিলাম এখন যেকোনো গাছের শিকড় দেখিলে, উহা কোন্‌ রকমের শিকড়, তাহা বোধ হয় তোমর। অনায়াসে বলিয়। দিতে প।/রিবে। কিন্তু এখনো এসন্বন্ধে অনেক কথ। বলিতে বাকি আাছে-_-সেগুলি একে একে বলিব

তোমাদের আগেই বলিয়াছি, গাছকে মাটিতে আট্কাইয়। রাখিবার জন্য শিকড়ের দরকার কিন্তু কেবল ইহার জন্যই কি গাছের তলায় শিকড় থাকে ? তাহা নয়। ছাগল, ভেড়া, পাখী প্রভাতি জন্তরা সমস্ত দ্রিন চারিদিকে ঘুরিয়া ফিরিয়া! কত কষ্টে খাবার সংগ্রহ করিয়া পেট ভরায়, তোমরা

শিকড়ের কাজ ১৯

তাহ দেখ নাই কি? যেখানে ছু'টা কাচা ঘাস থাকে, গরু- ছাগলের! ছুটিয়া গিয়া তাহ! খাইয়া! আসে। ধুলা বালির মধ্যে ছু'টা সরিষা বা ধান পড়িয়। থাকিলে পাখীরা খু'জিতে খুঁজিতে গিয়া তাহ। খাইয়া ফেলে এই-রকমে সমস্ত দিন ছুটাছুটি করিয়া পেট ভরায় বলিয়াই জন্তরা বাঁচিয়া থাকে। বাচিয়া থাকিবার জন্য গাছদেরও খাওয়। দরকার কিন্তু খাবার জোগাড় করিবার জন্য ভাহার। ছুট|ছুটি করিতে পারে না। তাই গাছদের শিকডই মাটির তলায় চলাফেরা করিয়। খাবার জোগাড় করে এবং তাহা খাইয়! গাছরা বাচিয়া থাকে

চৈত্রবৈশাখ মাসে যখন মাটিতে রস থাকে না, তখন নেক দূরের গাছের শিকড় মাটির তলায় লুকাইয়! লুকাইয়া পাতকুয়া বা পুকুরের দিকে ছুটিয়া চলে। ইহা তোমর! দেখ নাই কি? আমরা চারি-পাচ শত হাত দূরের বটগাছের শিকড়কে, পাতকুয়ার দ্রিকে ছুটিয়া আমিতে দেখিয়াছি এই-রকমে অনেক শিকড় জমা হইর়। কুয়া ভাঙিয়। ফেলিয়াছে, ইহাও দেখা গিয়াছে

তাহ। হইলে দেখ, তঞ্চা নিবারণের জন্য গাছের শিকড় মাটির তলায় লুকাইয়া৷ কতই ছুটাছুটি করে।

কেবল ঢক্-ঢকৃ করিয়া কতকগুলো! জল খাইলে পেট ভরে না এবং তাহাতে শরীরও পুষ্ট হয় না তাই জল ছাড়া আরো অনেক খাবার ন। খাইলে আমাদের শরীর টিকে না। গাছদের অবস্থাও ঠিক আমাদের মতো তাহারা কেবল

২০. গাছপাল৷ জল খাইলে বাঁচে না, জলের সঙ্গে সঙ্গে তাহার! অন্য খাবার চায়--তাহাদের অনেক খাবারই মাটির সহিত মিশানে। থাকে, শিকড়ই সেই সব মাটি হইতে চুবিয়া লইয়। গাছকে খাওয়ায় ইহাতেই গাছের গায়ে জোর হয় এবং তাহারা বড় হইয়! ফুল-ফল ধরাইতে আরম্ভ করে।

যাহা হউক, মাঁটি হইতে খাবার জোগাড় করিবার জন্য শিকড়দের কম ছুটাছুটি করিতে হয় না। মনে কর, তোমাদের বাড়ীর কাছে দোকান নাই,.দোকান এক ক্রোশ তফাতে! এদিকে তোমাদের ভাগারের খাবার ফুরাইয়া গিয়াছে তখন তোমর| কি কর? মা তোমাদের সেই চাকরটির হাতে টুকৃরি দিয়া এক ক্রোশ তফাতের দোকান হইতে খাবার আনিতে পাঠাইয়া দেন। খাবার আসে, তার পরে রান্না হয়।' কতকগুলি গাছ খাবার জোগাড়ের জন্য ঠিক এই রকমই করে। কাছের মাটিতে যে-সব খাবার থাকে তাহ' ফুরাইয়া গেলে, দূরের মাটি হইতে খাবার আনিবার জন্য তাহার শিকডদের পাঠাইয়া দেয়। শিকড়র! অনেক কষ্টে সেই সব জাগায় গিয়া খাবার জোগাড় করে।

গাছের শিকড প্রায়ই সোজা হয় না। একটি ছোটো গাছ সাবধানে শিকডনুদ্ধ উঠাইয়া পৰীক্ষা করিয়ো ; দেখিবে, ছড়ির মতে। এবং স্তার মতো শিকড়গুলি জটলা করিয়া রহিয়াছে-_-তাহাদের মধ্যে অনেকগুলিই আকা-বাকা ;

শিকড়ের কাজ * ২১

গাছের শিকড় কেন এ-রকম আকা-বীকা হয়, বলিতে পার কি? বোধ হয়, পার না।

আচ্ছা, মনে কর, যেন তুমি বিকালে মাঠের মাঝ দিয়া ফুটবল্‌ খেলার জন্ত ছুটিয়া চলিয়াছ এবং তোমার পথের সন্মুখে যেন একট! প্রকাণ্ড কাটা-ঝোপ আসিয়া পড়িল। এই অবস্থায় তুমি কি কর? কীট! মাড়াইয়া টিবি ডিঙ্গাইয়! তোমার যাওয়া হয় না; কাটা-বোপটিকে এবং টিবিকে পাশে ফেলিয়! তুমি বাকিয়া খেলার মাঠের দিকে ছুটিতে থাক। গাছের শিকড় যখন জল খাবার জোগাড় করিবার জন্য মাটির তলায় ছুটিয়া চলে, তখন তাহার অবস্থাও প্রায় তোমার মতোই হয়। মাটির তলায় ইট পাথর কাঁকর বালির অভাব নাই। মাটির ভিতরে চলিতে চলিতে যখন শিকড় এই-রকম কোনে। শক্ত জিনিসের সম্মুখে আসিয়া পড়ে, তখন সেগুলি আর সোজান্ুজি যাইতে পারে না, কাজেই, মুখ ফিরাইয়। তাহাকে বাঁকিয়া চলিতে হয় 'এই-রকমেই গাছের শিকড় আকা-বাকা হইয়া পড়ে

গাছের শিকড়ের ডগা বড় নরম জিনিস। একটু লাগিলেই তাহা মুটু করিয়া ভাঙিয়া যায়, যেন কোনো জিনিসের গায়ে ঘ্যাস্‌ লাগিলেও তাহ! নষ্ট হইয়া যায়। তাই শিকড় মাত্রেরই ডগায় একটি টুপির মতো অংশ লাগানো থাকে। সেলাই করিবার সময়ে পাছে আঙুলে ছুঁচের খোচা লাগে, এই ভয়ে আমরা আঙ্গুলৈ আঙ্গস্ত্রাণা লাগাইয়া তবে সেলাই

২২৯ গাছপাল।

করি। পাছে ইট পাথর কাকরের খোঁচা মাথায় লাগে এই ভয়ে শিকড়গুলিও মাথায় টুপি লাগাইয়। মাটির তলায় চলে। এই টুপিকে বৈজ্ঞানিকর! মূলত্রাণ 1৯০০ 087) ) নাম দিয়াছেন। তোমরা বোধ হয় শিকড়ের মাথার এই অংশটি কখনে। দেখ নাই বটগাছের ঝুরি এবং টোপা পানার শিকড়ের আগায় তোমর! স্পষ্ট দেখিতে পাইবে। ইহার রঙ. কতকটা বাদামী

শিকড়ের খাদ্য

আমরা আগেই বলিয়াছি, গাছর। শিকড় দিয়া জল মাটিতে মিশানেো। অনেক খাবার চষিয়া লয় এই সব খাবার যে কি, তোমাদিগকে এখন তাহাই বলিব

শুকৃনা কাঠ ব৷ শুক্না খড়ে জাগুন দিলে কি হয়, তোমর। তাহা সকলেই দেখিয়াছ। 'আাগুন দাউ দাউ করিয়া জলিয়া সেগুলিকে পোড়াইয়া ফেলে শেষে একটু ক্য়ল। বা এক- মুঠো শাদা! ছাই ভিন্ন তাহাদের আর কোনে! চিহ্ুই থাকে ন1। ছাইকে খুব গন্গনে আগুনে ফেলিয়া পোডাইবার চেষ্টা করিয়া দেখিয়ো ; দেখিবে, তাহাকে আর পোড়ান যায় না। বৈজ্ঞানিকর! এই ছাই পরীক্ষা, করিয়া তাহা হইতে ম্যাগ্নেসিয়ম, গন্ধক, লোহা, পোটাসিয়াম্‌ ক্যাল্সিয়ম্‌, ফস্করস্‌ এবং ক্লোরিন্‌- ঘটিত আনেক জিনিস বাহির করিয়াছেন। এগুলির নাম

শিকড়ের খাচ্ ২৩

হয় তোমর এই প্রথম শুনিলে তোমর। যখন বড় হইবে, তখন এই-সব জিনিস স্বচক্ষে দেখিতে পাইবে এখন ইভাই জানিয়া রাখো যে, এগুলি আকরিক জিনিস, সাধারণতঃ মাটির সঙ্গেই ইহারা মিশানো থাকে গাছরা এই সব জিনিসকেই খাগ্ভের আকারে মাটিতে পাইয়া শিকড় দিয়া চুষিয়। লয়। আমরা গাছের ত্রলায় মাটিতে যে সার দিই, তাহাতে এ-সব জিনিসই খাবারের মাকারে মিশানে। থাকে গাছরা তাহাই শিকড় দিয়। টানিয়। লয় বলিয়াই এত শীন্ শীঘ্র বড় হয়। অঙ্গার অর্থাৎ কয়লা! গাছের একটি প্রধান খাদ্য তোমর। হয় ভাবিতেছ, খানিকটা কাঠ-কয়লার গুড়া শিকড়ের গোড়ায় রাখিলে গাছর। তাহা খাইয়া ফেলিবে। কিন্ত তাহারা কখনই মাটিতে মিশানেো কয়ল৷ খায় না। চারিদিকের বাতাসে যে আঙ্গীর-মিশানে। বাষ্প থাকে, গাছের পাতা তাহা শুধিয়া লইয়। গাছের দেহে অঙ্গার জোগায় এ-সন্বন্ধে অনেক কথ! তোমাদিগকে পরে বলিব

আকাশের বাতাসে মোটামুটি কি কি বাম্প আছে, তোমরা বোধ হয় তাহা জানো না। চারি ভাগ নাইট্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন বাষ্প মিশিলে বাতাস উৎপন্ন হয়। অক্সিজেন বাম্প, গাছপাল এবং জন্ত'জানোয়ারদের বড় উপকারী আমর নিশ্বাসের সঙ্গে যে বাতাস টানিয়। শরীরের ভিতরে লইয়া যাই, তাহার অক্সিজেন রক্তের সহিত মিশিয়া রক্তকে তাজা করে। বাঁচিয়া থাকিবার জন্য

২৪ গাছপালা

গাছদেরও অক্সিজেনের দরকার হয়, কিন্তু সব চেয়ে দরকার হয় নাইট্রোজেনের। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, চারিপাশের বাতাসে এত নাইট্রোজেন সত্বেও গাছর। বাতাস হইতে তাহা টানিয়। লইতে পারে না সারের সঙ্গে মাটিতে যে নাইট্রোজেন্‌ মিশানো। থাকে, ইহারা তাহাই শিকড় দিয়া টানিয়া নয়। নাইট্রোজেন ন! পাইয়। যখন মরিবার মতো! হইতেছে, তখনো তাহারা বাতাস হইতে নাইট্রোজেন টানিয়৷ লইতে পারে না, ইহা! মজার ব্যাপার নয় কি? এক গলা জলে ফাড়াইয়া যদি কেহ তষ্তায় হা-্ততাশ করে, তাহা হইলে যেমন অদ্ভুত দেখায়, ইহা প্রায় সেই রকমেরই অদ্ভুত ব্যাপার কিন্তু ইহা সতা। ধরঞ্চে, মটর, শীম প্রভৃতির গাছ যে-রকমে নাইট্রোজেন গ্রহ করে, তাহ বড় মজার। হাদের শিকডে এক রকম খুব ছোঁটে। উদ্ভিদ বাসা করে। এই ছোটে উদ্ভিদ্ঞ্চলিকে জীবাণু বলা হয়। ইহারা বাতাস হইতে নাইট্রোজেন টানিয়া গাছের জন্য খাবার তৈয়ারি করে। গাছরা শিকড়ের গায়ে এই উপাদেয় খাবার পাইয়া পেট ভরিয়া খাইতে আরম্ভ করে এবং তাহাতে শীঘ্র শীঘ্র বন্ড হইয়। পড়ে এত জায়গ' থাকিতে জীবাণুর কেন ঝাকে ঝাঁকে আসিয়। এই সব গাছের শিকড়ে বাসা বাধে এবং কেনই বা বাতাস হইতে নাইট্রোজেন টানিয়। গাছদের উপকার করে, তাহ ঠিক জান যাষ নাই।

খাওয়ার প্রণালী হ২৫

এখানে ধঞ্চের শিকড়ের একটা ছবি দিলাম দেখ, শিকড়ের গায়ে জীবাণুদের কত গোল গোল বাস! রহিয়াছে যে-সব গাছের শুটি ওয়ালা ফল হয়, কেবল তাহাদের শিকড়েই এই রকম জীবাণুর বাসা দেখা যায়। তোমাদের বাগানে যদি ধঞ্চে, মটর, অপরাজিতা, চীন। বাদাম বা অন্য কোনে শু'টিওয়ালা গাছের চারা থাকে, তবে তাহাদের একটিকে উপ্ড়াইয়া পরীক্ষা করিয়ো; দেখিবে, শিকড়ের গাঁয়ে জীবাণুদের বাসা ছোটে

মতো! লাগানো রহিয়াছে

ধঞ্চের শিকড়

খাওয়ার প্রণালী

আমরা গোয়ালঘরে খড়-বিচালি কাটিয়া গাম্লায় খোলে জলে মিশাইয়া রাখি বাড়ীর গরুটি চরিয়। আসিয়। গাম্লায় মুখ ডুবাইয়! সেগুলি খাইতে আরম্ভ করে। পাত্রে ভালে ভালে! খাবার সাজাইয়! যখন ম! তোমার জন্য অপেক্ষা! করিতে থাকেন, তখন তুমি কোথা হইতে ছুটিয়া আসিয়া! পাত্রের খাবার মুখে পুরিতে আরম্ভ কর। জস্ত-জানোয়ার মানুষের খাওয়ার প্রণালী এই রকম নয়কি? কিন্তু গাছরা সে-রকমে খায় না, ইহার! শিকড় দিয়া খাবার খায়, ইহা তোমরা! অনেকবার'শুনিয়াছ, কিন্তু তাহাদের খাওয়ার

২৬ গাচপাল৷

প্রণালীব কথা তোমাদিগকে এখনো বলি নাই। এখন তাহারি বিষয় তোমাদের বলিব

গাছর! কি-রকমে শিকড় দিয়া খাবার খায়, তাহা জানিতে হইলে বিজ্ঞানের একটি মোটা কথা তোমাদের বুঝিয়া রাখা দরকার হইবে

এখানে একট। পাত্রের ছবি দিলাম। ইহার মাঝে ষে পর্দাটি দেখিতেছ,তাহা পাতল।| চামডার পর্দা ইহাতে সমস্ত পাত্রটি তুইটি কুঠারীতে ভাগ হইয়া গিয়াছে পর্দ। বেশ শক্ত করিয়া শীট! আছে, তাই এক কুঠারীর জল মন্য কুগারীতে যাইতে পারে না। এখন মনে কর, যেন শীচের কুঠারীতে চিনি-গে!ল? জল আছে এবং উপর দিকের কুঠারীষ্তে বেশ পরিষ্কার খাবার জল রাখা হইয়াছে এখন এই দুই রকম জলের অবস্থা কি হইবে বলিতে পার কি? তোমরা হয় বলিবে, জল যেখানে যেম, আছে ঠিক সেই রকমই থাকিবে কিন্তু পরীক্ষা করিলে তাভা দেখা যাইবে না”_মাঝের পর্দার ভিতর দিয়া পরিক্ষার জল নীচেকার কুঠারীতে প্রবেশ করিবে এবং সেখানকার চিনি-গোলা গাঢ় জলকে পাতল। করিয়। দিবে

কেবল চিনি-গোল! এবং পরিষ্কার জলেই যে এই বাপারটি দেখা যায়, তাহা! নয়। চামড়ার মত পরদার এক

খাওয়ার প্রণালী ২৭

ধারে গাঢ় জিনিস এবং আর এক ধারে পাতলা জিনিস থাকিলে সকল সময়ে ইহাই ঘটে পাশের ঘন জিনিষকে পাতল।

করিবার জন্য পাতল। জিনিসগুলি প্রাণপণে চেষ্টা করে খাওয়া-সম্বন্ধে নানা লোকের নানা রকম সখ আছে।

তোমাদের মধ্যে হয় কেহ কেহ দুধ খাইতে ভালবাস না, কিন্তু কীচ1 পেয়ারা, টক আম পাইলে গণ্ডায় গণ্ডায় সেগুলিকে চিবাইয়া খাইতে পার আমরা এমন লোকও দেখিয়াছি, যাহারা পায়েল খাইতে ভালবাসে না, কিন্তু আট দশ গণ্ড রসগোল্লা ভরাপেটে অনায়াসে গিলিয়। ফেলিতে পারে খাওয়। সম্বন্ধে গাছদেরও এক রকম সৌখীনতা আছে। আমরা যেমন গরম গরম জিলাপি, ময়ান দেওয়া খাস্তা করি এবং ছোলা! মটর ভাজা দাত দিয়া চিবাইয়া! গিলিয়া ফেলি, গাছরা শিকড় দিয়। সরূপ কখনই খাইতে পারে না জলের সঙ্গে মিশিয়। খাবার তরল আকারে না৷ আসিলে ইহাদের তাহ। খাওয়াই হয় না। তোমাদের খোকাটি শক্ত বিস্কুট চিবাইয়া খাইতে পারে কি? দাত নাই, চিবাইবে কি রকমে ? তাই খোকাকে ছৃধ বা মন্ত তরল খাবার খাওয়াইতে হয়। গাছরা যেন চিরদিনের খোকা, তরল খাবার শিকড়ের কাছে না পাইলে তাহাদের খাওয়াই হয় না। তোমর। বোধ হয় ভাবিতেছ, গাছর! মাটির তলায় তরল খাবার কোথায় পাইবে ? মাটির তলায় জল থাকে, তাহা তোমরা দেখ নাই কি ? * খুব গরমের দিনে রৌদড্রেব তাপে

২৮ গাছপালা

যখন মাটি ফাটিয়া চৌ-চির হইয়াছে, তখনো যদি কোনো জায়গার উপরকার মাটি খুড়িয়া! ফেলিয় দাও, তবে নীচেতে ভিজ! মাটি দেখিতে পাও ন। কি? দেড় হাত বা ছুই হাত নীচেকার মাটি সর্বদাই জলে ভিজ! থাকে এবং এই জলই খাবার গুলিয়। দেয়

বৈশাখের রৌদ্র মুখ শুকাইয়! আসিয়াছে, এমন সময়ে খুব ভালো আমের আচার বা কুলচুর সম্মুখে আনিলে কি হয়, তোমরা নিশ্চয়ই দেখিয়াছ। তখন শুকৃনো মুখে আপনিই জল জমে কাছে খাবার পাইলে শিকড়ের ভিতর হইতে সেই-রকমে এক অয্ন রস বাহির হয়। ইহাও খাবার গুলিয়। তরল করিবার সাহায্য করে।

গাছর। কি-রকমে শিকড় দিয়! খাবার খায়, এখন তোমর। তাহ] বুঝিতে পারিবে মনে"কর, কোনো গাছের শিকড় তলাকার ভিজে মাটিতে মিশানে। খাবারের কাছে গিয়াছে সরু শিকডগুলির ভিতরকার কোষ গাঢ় রসে ভন্ভি জাছে এবং শিকড়ের গায়ের মাটি নিজের রসে শিকড়ের মনন রসে তরল হইয়! পড়িয়ান্ে, অর্থাৎ শিকড়ের ভিতরকার রস গাঢ় এবং খাবার মিশানো বাহিরের রস পাতলা হইয়া ঈাড়াইয়াছে এই অবস্থায় ভিতরকার গাঢ় রস এবং বাহিরের পাতল। রসের অবস্থা কি হইবে, তোমরা বলিতে পার কি? আগেকার পরীক্ষার কথ! মনে কর। সেখানে আমরা দেখিয়াছি, গাঢ় জিনিস পাতলা জিনিস যদি পাশাপাশি থাকে এবং তাহাদের

খাওয়ার প্রণালী

সরু চামড়ার ব্যবধান থাকে, তাহা হইলে পাতল। জিনিসটা পর্দার ভিতর দিয়া আসিয়া গাঢ় জিনিসে মিশিয়া যায়। এখানে ঠিক সেই অবস্থাই হইতেছে না কি? শিকড়ের কোষে গাঢ় রস রহিয়াছে এবং বাহিরে খাবার-মিশীনে! পাতল। রস আছে। কাজেই, বাহিরের পাতল। রস ধীরে ধীরে শিকড়ের কোষে গিয়া হাজির হয়। এই রকম করিয়াই মাটিতে মিশানে। খাবারের রস শিকড়ের ভিতরে যায় এবং তার পরে তাহ শিকড় হইতে উপরে উঠিয়া গুঁড়ি, ডাল, ফুল, ফলকে পুষ্ট করে।

তোমরা বোধ হয় ভাবিতেছ, বট, অশথ, আম, কাটাল গাছের যে-সব মোটা মোটা শিকড় থাকে, তাহারা বুঝি এই রকমে খাবার খায়। কিন্তু তাহা নয়। মোটা শিকড় হইতে যে-সব সততার মতো! শিকড় বাহির হয়, সেইগুলিই রস টানিয়। লয়। কিন্তু বেশি রস টানে ইনার চেয়েও সরু শিকড়ের।। এই শিকড় তোমর। দেখ নাই,_-সহজে দেখাও যায় না। সরু শিকড়ের গায়ে চুলের চেয়েও সরু এক-রকম শিকড় লাগানো থাকে ; ভিজে মাটিকে জড়াইয়! ধরিয়া এইগুলিই বেশি পরিমাণে খাবারের রস টানিয়! লয়। লোমের মত সরু বলিয়া এই রকম শিকড়কে লোম-শিকড় (1০9০% 1817) বলা হয়। তোমরা কোনো ছোটে। গাছের লোম.শিকড় দেখিবার চেষ্টা করিলে হঠাৎ সেগুলিকে দেখিতে পাইবে না। মাটি হইতে উঠাইবার সময়ে যে নাড়া পায় তাহাতেই সেগুলি, ভাডিয়া যায়।

৩০৪ গাচছপাল৷

তোমরা দি লোম-শিকড় দেখিতে চাও, তাহা হইলে রুমালের মতো একখানি ছোটো নেকৃড়াকে ভাজ করিয়া জলে ভিজাইয়ো৷ এবং তাহার ভিতরে কয়েকটি সরিয় ছড়ায়! রাখিয়ো | ছুই তিন দিন এই রকম ভিজা থাকিলে সবিষাগুলি হইতে লম্ব। লম্বা! শিকড বাঠির হইবে এই সময়ে তোমরা যদি আস্তে মাস্তে নেকুড়ার ভাজ খুলিয়া সরিষার গাছগুলিকে পরীক্ষা করিতে পার, তাহা হঈলে সেগুলির মোটা শিকড়ের গায়ে আসংখ্য লোম-শিকড দখিতে পাইবে | ছোটো বড় সকল গাছের এই শিকড়গুলি কাছের ভিজে সরিষাগাছের লোৌম-শিকড মংটিকে জড়াইয়! ধরিয়া খাদ্- রস টানিয়া লয়। লোম-শিকড় কি-রকমে মাটি জড়াইয়! রস টানে, ছবিতে তাহ] দেখিতে পাইবে

গুড়

শিকড়ের কথা তোমরা শুনিলে, এখন গুড়ির কথা তোমাদিকে বলিব

*গড়ি্” কথাটি শুনিলেই আম, কাটাল, শাল ইত্যাদি বড় বড় গাছের মাটির উপরকার মোটা অংশের কথা মনে পড়িয়া যায় মামরা এখানে ছোটে? বড় সকল গাছেরই শিকড়ের উপরকার মোটা অংশকে গুড়ি বলিতেছি। গুড়ির ভালে! নাম “কাণ্ড”

বট, অশখ, বকুল প্রভূতি গাছে কত পাতা, কত ডাল থাকে, তোমরা তাহা সকলেই দেখিয়াছ এইগুলিকে মাটির উপরে খাড়া রাখিয়া ঝড় বাতাসের ঝাপট সহ্া কর! সহজ ব্যাপার নয়। এইজজ্ত বড় গাছের গু'ড়ি খুব মোটা শক্ত হয় তাল, নারিকেল, ঝাউ প্রভৃতি গাছে বেশি পাতা থাকে না। এজন্য ঝড়ের সময়ে তাহাদের গায়ে বেশি বাতাস আটকায় না কাজেই, এই সব গাছের গুঁড়ির বেশি মোটা হওয়া দরকার হয় না। লাউ, কুমড়া, তরমুজ প্রভৃতির গাছ মাটির উপর দিয়া লতাইয়। চলে কাজেই, ঝড় বা বাতাসে তাহাদের বিশেষ ক্ষতি করে না। এইজন্যই গাছ খুব বড় হইলেও ইহাদের গুঁড়ি শক্ত মোটা হয় না।

ঘর-বাড়ী তৈয়ার করিবার সময়ে আমরা অনেক হিসাব- পত্র করিয়! তাহার যেখানে যে-রকম মজবুত করার দরকার, তাহা করি। এইজন্যই ঝভবৃষ্টির উৎপাতে আমাদের বাড়ী-

৩২ গাছপালা

ঘর হঠাৎ ভাডিয়া যায় না। গাছরাও সেই রকম হিসাক জানে। তাই যেমনটি দরকার, ঠিক্‌ সেই রকমে তাহাদের গুঁড়িগুলিকে কখনে। মোটা, কখনো সরু করে বাজে-খরচ ইস্ার। জানে না।

তাহা হইলে দেখ, গাছের গুড়ি ষে কেবল আম-কীাটাল গাছের মতো মাটি হইতে খাড়া হইয়া উঠে, তাহা নয় কতক গাছের গুড়ি মাটিব উপরে লতাইয়া বেড়ীয় ; কতক লতাইয়া গিয়া কাছের বড় গাছের উপরে উঠে: আবার কতক কাছে গাছপাল! বা অন্য কিছু আশ্রয় পাইলে ইস্কুপের প্যাচের মতো তাহাকে জড়াইয়া উপরে উঠিতে আরম্ভ করে।

যে-সব লতা! অন্ত গাছকে আশ্রয় করিয়া দাড়াইয়। থাকে, সেগুলিকে তোমর! হয় ভালো করিয়া দেখ নাই। ইহাদের অনেকেই কেহ কাঁটা দিয়া, কেহ আকৃড়ি দিয়া আশ্রয়কে অটিয়া ধরিয়া উপরে উঠে শিয়াকুল চুপ্‌ড়ি আলুর গাছ তোমরা বোধ হয় দেখিয়া ইহারা কাটা-ওয়াল। কতকটা লতানে গাছ। কাছে অন্ত গাছ পাইলেই কাটা দিয়া আট্কাইয়া ইহারা সেই সব গাছের উপরে চভিয়া বসে।

কাছের জিনিসকে আকড়ি দিয়! জড়াইয়। যাহারা উপরে উঠে, এই রকম লতা। তোমাদের বাগানেই অনেক আছে। মটর, লাউ, কুমড়া, বিঙে, তরমুজ, শশ! প্রভৃতি গাছের ডগা হইতে আঁকৃড়ি বাহির হয়, তাহা দিয়া ইহারা কাছের জিনিসকে জড়ায় ধরে এবং মাচার উপরে উঠে।

গুঁড়ি ৩৩

ইহা! ছাড়া গা হইতে শিকড় বাহির করিয়াও অনেক লত। আন্ গাছের উপরে উঠে। চই, গাছ-পান পিঁপুলের লতায় তোমরা ইহা। দেখিতে পাইবে

যে-সব লতা তাহাদের মাশ্রয়কে ন্তরুপের প্যাচে জড়াইয়া৷ উপরে উঠে, তাহা তোমরা দেখ নাই কি? মগিং- গ্রোরি, বিবতাড়ক, কল্মী-লত। জাতের অনেক গাছ এ-রকম পাকে পাকে ঘুরিয়া আশ্রয়ের উপরে চড়িয়া বসে মালতী ফুলের গাছ যদি তোমাদের বাগানে থাকে তবে পরীক্ষা করিয়ে।; দেখিবে, এই লতাও নিকটের গাছকে ইন্ক্ুপের মতো প্যাচ দিয়া উপরে উঠিতেছে

একটা বড় পেন্সিলে যদি ইস্তুপের মতো! করিয়া সুতা! জড়াইতে আরন্ত করা যায়, তাহা হইলে স্তা-গাছটিকে ডান্‌ দিক হইতে ব। দিকে, অথবা ব! দিক হইতে ডান দিকে জড়ানো যাইতে পারে একটু স্ুত। লইয়া তোমরা তাহা এই দুই রকমে জড়াইয়া দেখিয়ে।। বডই আশ্চর্যের বিষয়, অনেক লতাই বা দিক্‌ ধরিয়াই তাহাদের আশ্রয়কে জড়াইতে থাকে | মণিংগ্লোরি, মালতী, মাধবী প্রস্তুতি সব গাছেই তোমরা ইহা দেখিতে পাইবে তোমরা একটি মর্ণিং- গ্লোরির লতাকে জোর করিয়া ডান্‌ পাকে ঘুরাইয়া সৃতা দিয়। বাধিয়া রাখিয়ো ; দেখিবে, ছই এক দিন পরে তাশ্ার নূতন ডগা ডান পাকে না জড়াইয়া বাঁ-পাকে জড়াইয়! উঠিতেছে। আশ্ধ্য নয় কি? *

৩৪৪ গাছপাল।

চুপড়ি আলু, খাম আলুর লতা তোমর। দেখিয়াছ কি? আমাদের জানা-শুনা গাছের মধ্যে ইহারাই ডান্‌ পাকে জড়াইয়া উপরে উঠে।

বামাঝন্ড লতা ক্ষিণাবন্ত তা

বা-পাকে জড়ানো ডান-পাঁকে জড়ানো তার ছুইটি পুথক্‌ ছবি দিলাম তোমাদের বাগানে বা বাড়ীর কাছের বনে যে-নব লত। আছে, তাহাদের সঙ্গে ছবি মিলাইয়। দেখিয়ো। তাহ! হইলে বুঝিতে পারিবে, অনেক লতা তাহাদের আশ্রয়কে বাঁ-পাকে ঘ্বুরিয়া জড়ায়

অধিকাংশ লতাই কেন বী-পাকে ঘৃরির়। বেড়ায়, এই কণ! বোধ হয় তোমর। জানিতে চাহ্িতেছ। কিন্তু এ-সম্বন্ধে

লতা অন্ত গাছকে জড়ায় কেন ? ৩৫

কোনে। কথা তোমাদিগকে এখন বলিতে পারিব না তোমরা যখন বড় হইয়া গাছ-গাছড়া সম্বন্ধে বড় বড় বই পড়িবে, তখন সে-সব কথা জানিতে পারিবে

লত! অন্য গাছকে জড়ায় কেন?

গরু, ছাগল, সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি প্রাণীদের চেতনা আছে এবং একটু-আধ্টু বুদ্ধিও আছে তাই তাড়া দিলে তাহারা পল।ইয়। যায়, ভয় পাইলে লুকায় এবং ক্ষুধ। পাইলে খাবারের সন্ধানে ঘ্ুরিয়। বেড়ায়। গাছপালাদের বুদ্ধি নাই এবং চেতনাও নাই, তবে কেন লাউ-কুমড়ার কচি ডগাগুলি আলোর দিকে মাথ। উচু করে এবং কাছে কিছু পাইলে তাহাকে জড়াইয়। ধরে, এই কথাট! ছেলেবেলায় বার বার আমাদের মনে হইত | *তোমাদেরে! হয় তাহাই মনে হয় একটা উদাহরণ দিলে তোমরা এই বিষয়গুলি সহজে বুঝিতে পারিবে

মনে কর, একগাছি কাচ! কঞ্চিকে উন্ুনের আঅংগ্নের উপরে ধর! গেল, এবং আগুনের তাপ কঞ্চির এক পিঠে ল[গিতে থাকিল। অনেকক্ষণ এই রকম অবস্থ।য় রাখিলে, কঞ্চির অবস্থা কি-রকম হইবে, তোমরা বলিতে পার কি? পরীক্ষা করিয়ে। ; দেখিবে, তাহ। ধনুকের মতো বাঁকিয়া যাইবে। আগুনের কাছে থাকায় উহার নীচেকার পিঠ শুকাইয়! সন্কুচিত হষ্টয়। পড়িবে কিন্ত উপরকার পিঠ আগেকার মতো

৩৬ গাছপালা

কাচাই থাকিয়া যাইবে কাজেই, এক পিঠ, লম্বা! এবং আর এক পিঠ. কৌকৃড়ানো হওয়ায়, জিনিসটার বাকিয়া যাওয়া ছাড়! আর উপায়ই থাকিবে না| লারা যখন কাছের বড় গাছকে জড়াইয়া ধরে এবং শশ। কুমড়ার গাছ জীকড়ি দিয়! বাঁশের খু'টিকে জড়াইয়া যখন মাচায় উঠে, তখন এই রকমেরই একটা ব্যাপার ঘটে লতার কচি ডগা যেমন চট্পট. করিয়া বাড়ে, তাহার অন্য অংশ সেই রকমে বাড়ে না। এই সব ডগ! যখন বাঁশেরখু টি বা অন্য গাছের গুডির গায়ে আসিয়। ঠেকে, তথন এসব জিনিসের সঙ্গে তাহার যে-পিঠ.টা ঘষ| পায় তাহার বৃদ্ধি কমিয়া আসে কিন্ত অপর পিন. পুর! দমে বাড়িয়া চলে! কাজেই, আকড়ি অন্ত জিনিসকে জড়াইতেছে গাগেকার কঞ্চির মতোই ইহার অবস্থা হয়। এখন আশ্রয়-বস্তকে ঘিরিয়া লতার ডগা আপনা হইতেই ধন্নুকের মতে। বাকিয়া পড়ে ইহ। দেখিয়া আমরা মনে করি, বুঝি, লতাটি ইচ্ছা করিয়াই গাছকে জড়াইয়া উপরে উঠিতেছে কুমড়ার তাঁজা কচি ডগা! সাপের ফণার মতো যখন

৮৬

মাটির তলার গুঁড়ি ৩৭

আলোতে মাথা উচু করে, তখনো এই রকম ব্যাপার হয়। ডগার যে-পিঠ্‌ রৌদ্রের তাপ পায়, তাহার বৃদ্ধি অতি ধীরে ধীরে চলে, কিন্তু উহার যে-পিঠ্‌ মাটির উপরে ছায়ায় থাকে, তাহার বৃদ্ধি রীতিমত চলিতে থাকে কাজেই, ইহাতে ডগার ছুই পিঠের বুদ্ধি এক রকম হয় না। ইহার জন্যই ডগাটি ধন্গকের মতে। বাকিয়া মাথা উচু করে।

স্ৃয্যের আলো না পাইলে গাছ বাড়ে না,_-আলো। দিয়া ইহার। পাতার খাবার তৈয়ারি করে তাই খুব অন্ধকার ঘরে রাখিলে, গাছ শাদ1 হইয়। মরিয়া যায়। তোমাদের পড়িবার ঘরের জানালায় টবে করিয়। একটি মণিংগ্লোরির গাছ রাখিয়া পরীক্ষা করিয়ো ; দেখিবে, জানালার ফাকের দিকেই লতা! ঝুঁকিয়। পরিতেছে রৌদ্রের তাপ যেমন করিয়া কুমড়ার ডগাকে বাকায়, আলোও + কতকটা সেই রকম করিয়াই মণিংগ্লোরির লতাকে বাকাইয়া ফেলে কিন্ত আমরা ইহা দেখিয! ভাবি, লতাটি বুঝি আপনিই আলোর দিকে যাইতেছে |

মাটির তলার গুড়ি

গাছের গুঁড়ি-সম্বন্ধে অনেক কথ। তোমাদিগকে বলিলাম, কিন্তু এখনে মাটির তলার গুঁড়ির কথা তোমাদ